২০২১ সালের শেষ দিকে কয়েকজন বাংলাদেশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা একটা সমস্যা দেখলেন — বাংলাদেশের মানুষ অনলাইনে বিনোদন খুঁজছেন, কিন্তু বেশিরভাগ প্ল্যাটফর্ম বিদেশি, ইংরেজিতে, এবং স্থানীয় পেমেন্ট পদ্ধতি সমর্থন করে না। সেই ফাঁকটা পূরণ করতেই Bajioo-র যাত্রা শুরু।
শুরুতে দলটা ছোট ছিল — মাত্র ১২ জন। কিন্তু লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট: এমন একটা প্ল্যাটফর্ম বানাতে হবে যেখানে একজন রিকশাচালক থেকে শুরু করে একজন কর্পোরেট কর্মী — সবাই সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন। বিকাশ আর নগদ দিয়ে টাকা দেওয়া-নেওয়ার ব্যবস্থা করা ছিল সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ — এবং সেটা সফলভাবে সমাধান করা হয়।
প্রথম বছরে কী ঘটেছিল?
২০২২ সালের প্রথম ছয় মাসে Bajioo মাত্র ৳৫০ দিয়ে লটারি খেলার সুবিধা চালু করে। এটা ছিল সাহসী সিদ্ধান্ত — কারণ ঐ সময় বাজারে এত কম দামে টিকিট পাওয়া যেত না। মানুষ সাড়া দিলেন। প্রথম মাসেই ২,০০০-এর বেশি মানুষ নিবন্ধন করলেন।
সেই বছরই Bajioo ক্রিকেট বেটিং সেকশন চালু করে। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এই সুযোগটা লুফে নিলেন। IPL ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময় প্ল্যাটফর্মের ট্র্যাফিক তিনগুণ বেড়ে যেত।
বিশ্বাসযোগ্যতা কীভাবে তৈরি হলো?
অনলাইনে বিশ্বাস অর্জন করা কঠিন, বিশেষ করে গেমিং সেক্টরে। Bajioo এটা করেছে ধীরে ধীরে, সৎ পথে। প্রতিটি ড্রয়ের লাইভ ফুটেজ প্রকাশ করা, সময়মতো উইথড্রয়াল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অভিযোগে দ্রুত সাড়া দেওয়া — এই তিনটি অভ্যাস Bajioo-কে আলাদা করেছে।
২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক লাইসেন্স অর্জনের পর থেকে আরও বেশি মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেন। তৃতীয় পক্ষের অডিট রিপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হতে থাকে। সদস্য সংখ্যা বছরে দ্বিগুণ হয়।
এখন Bajioo কোথায়?
আজ Bajioo বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় সক্রিয়। প্রতিদিন গড়ে ৫০০-এর বেশি মানুষ সক্রিয়ভাবে খেলছেন। দলে এখন ৮০ জনেরও বেশি কর্মী, যাদের বেশিরভাগ বাংলাদেশি।
Bajioo-র পরিকল্পনা আছে আরও বেশি স্থানীয় গেম যোগ করার, মোবাইল অ্যাপ আরও উন্নত করার এবং গ্রামীণ এলাকায় সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার। লক্ষ্য একটাই — বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যেন বিনোদনের সুযোগ পান।
আমাদের প্রতিশ্রুতি: Bajioo সবসময় স্বচ্ছ থাকবে। কোনো লুকানো শর্ত নেই, কোনো অযথা বিলম্ব নেই। আপনার বিশ্বাসই আমাদের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।